The Greatest Mohammad Ali সম্পর্কে কিছু তথ্য

মোহাম্মাদ  আলী জানুয়ারি ১৭, ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।আজীবন বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ অধিকার আদায় আর বিশ্ব শান্তির জন্য লড়ে গেছেন রিং ও রিং এর বাইরের এই যুদ্ধা । রিং এর মতো রিং এর বাইরের জগতেও তার ছিল হার না মানার মানঅসিকতা । “The Greatest “নামে খ্যাত ছিলেন তিনি ।

প্রাথমিক জীবন

মোহাম্মাদ আলীর  পিতা ক্লে সিনিয়র সাইনবোর্ড এবং বিলবোর্ড রঙ করতেন এবং মা ওডিসা গ্র্যাডি ক্লে একজন গৃহিনী ছিলেন। যদিও ক্লে সিনিয়র একজন মেথডিস্ট ছিলেন কিন্তু তার সন্তানদের বাপ্টিস্টে নিতে তার স্ত্রীকে অনুমতি দিতেন। ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্টের কেন্টাকির লুইভিলাতে  জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাইয়ের বড় ক্লের নামকরণ তাঁর পিতা ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে সিনিয়রের  নামে করা হয়, যার নাম একই নামের একজন উনবিংশ শতাব্দীর মার্কিন রাজনীতিবিদের সম্মানে রাখা হয়েছিল। ক্লের পিতামহ ও পিতামহীর নাম ছিল জন ক্লে ও সালি অ্যানা ক্লে। ক্লের ভগিনী ইভার বয়ান অনুযায়ী সালি মাদাগাস্কারের অধিবাসী ছিলেন। ক্লের পিতা একজন রংমিস্ত্রি ছিলেন, এবং তাঁর মাতা  ওডিসা গ্র্যাডি ক্লে  একজন গৃহপত্নী ছিলেন। সিনিয়র ক্লে প্রাক-গৃহযুদ্ধ  দক্ষিণাংশের একজন আফ্রিকান আমেরিকান ক্রীতদাসের বংশধর ছিলেন।

লুইভিলার পুলিস অফিসার তথা বক্সিং প্রশিক্ষক জো মার্টিন  , ক্লেকে প্রথম বক্সিং শিখতে বলেন, যখন তিনি বারো বছরের ক্লেকে একজন সাইকেল চোরের সঙ্গে মারপিট করতে দেখেন।এর পরবর্তী চার বছর বক্সিং কাট্ম্যান চাক বোডাক    তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন।

ক্লে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম অপেশাদার বক্সিং প্রতিযোগিতায় নামেন। তিনি ছয়বার কেন্টাকি গোল্ডেন গ্লাভস    উপাধি, দুইবার জাতীয় গোল্ডেন গ্লাভস   উপাধি, একবার  অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন   জাতীয় উপাধি এবং রোমে  অনুষ্ঠিত ১৯৬০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পক বক্সিং  প্রতিযোগিতায় লাইট হেভিওয়েট   বিভাগে স্বর্ণপদক লাভ করেন। অপেশাদার বক্সিং প্রতিযোগিতায় ক্লে ১০০ বার জেতেন ও মাত্র পাঁচ বার পরাজিত হন।

পেশাদার বক্সিং

ক্লে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে অক্টোবর পেশাদার বক্সিং প্রতিযোগিতায় প্রথম বারের জন্য অংশ নেন এবং

“টানি হান্সাকারকে” ছয় রাউন্ডে পরাজিত করেন। বাসন মাজা ও ঝাঁট দেওয়ার মত কাজ করতে অস্বীকৃত হয়ে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ক্লে তাঁর প্রশিক্ষক “আর্চি মুরকে “  ত্যাগ করেন। এরপর তিনি অ্যাঞ্জেলো ডান্ডি কে   প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেন।

এই সময় তিনি “সুগার রে রবিনসনকে”   ম্যানেজার হিসেবে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন।.

এরপর থেকে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের শেষার্ধ পর্যন্ত ক্লে ১৯-০ জয়ের রেকর্ড করেন যার মধ্যে ১৫টি জয় নকআউটের মাধ্যমে ঘটে। এই সময় তিনি “টনি এস্পার্তি”, “জিম রবিন্সন”  ,”ডনি ফ্লীম্যান”,” আলোঞ্জো জনসন”,” জর্জ লোগান”,” উইলি বেসমানফ”,” ল্যামার ক্লার্ক”, “ডগ জোন্স “,”হেনরি কুপার”   ইত্যাদি মুষ্টিযোদ্ধাদের পরাজিত করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ক্লে  “আর্চি মুরকে “  ও পরাজিত করেন। প্রথম দিককার এই লড়াইগুলিতে ক্লেকে বেশ কয়েক বার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। “হেনরি কুপারের” সঙ্গে লড়াইয়ে ক্লে চতুর্থ রাউন্ডে কুপারের হুকে মাটিতে পড়ে যান, কিন্তু সঠিক সময়ে ঘন্টার আওয়াজে বেঁচে যান। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই মার্চ নিউ ইয়র্ক এর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে   ডগ জোন্সের সঙ্গে লড়াই এই সময় তাঁর জীবনের কঠিনতম লড়াই ছিল। প্রতিটি লড়াইয়ের শুরুতে ক্লে তাঁর প্রতিপক্ষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন ও নিজের ক্ষমতার দম্ভ করতেন। তাঁর এই আচরণ বহু দর্শকদের মনে ক্রোধের সঞ্চার করত।

ইসলাম গ্রহন

১৯৭৫ সালে মোহাম্মাদ  আলী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার মতে এ জন্য ভুমিকা রাখেন নেশন অফ মুসলিম এর প্রধান ডব্লু. ডি. মুহাম্মদ।

১৯৭৫ সালে আলি লড়াই করেন ফ্রেজিয়ার এর সাথে। দুজন বীরের এ লড়াইয়ের জন্য সকলে খুবই উত্তেজিত ছিল। ১৪ রাউণ্ডের শেষে ফ্রেজিয়ার এর কোচ তাকে আর লড়াই করতে দেননি কারণ তার এক চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেজিয়ার এর কিছুদিন পরই অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের এক লড়াইয়ে তিনি ১৯৭৬ এর অলিম্পিক মেডালিস্ট লিয়ন স্পিংক্স এর কাছে খেতাব হারান। তিনিই প্রথম যিনি একজন অপেশাদার এর কাছে হেরেছিলেন। ১৯৭৯ তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর গ্রহণ

তবে মোহাম্মাদ  আলী ১৯৮০ সালে ফিরে আসেন ল্যারি হোমস এর কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নিতে। ল্যারি ছিলেন তার শিষ্য তাই সকলেই লড়াইটি নিয়ে আগ্রহী ছিল। ১১ রাউন্ড পর আলি পরাজিত হন। পরে জানা যায় মস্তিস্কে মারাত্বক ত্রুটি ধরা পরেছে। তার মস্তিষ্ক ফুটো হয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন(৫৬ জয় ৩৭টি নকআউটে ৫ পরাজয়)। তিনি “সর্বকালের সেরা” বক্সার।

বাংলাদেশে মোহাম্মাদ আলি

১৮-২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮ তৎকালীন রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রনে বাংলাদেশ সফর করেন । ১৮ই ফেব্রুয়ারি

মোহাম্মাদ  আলীকে সম্মান্সূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে । হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সবুজ পার্সপোর্ট । ১৯ ফেব্রুয়ারি  বিকেলে ঢাকা স্টেডিয়াম এ আলি কে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কক্সবাজারে দেওয়া হয়েছিল এক টুকরো জমি। ২২ ফেব্রুয়ারি ই আলী নবনির্মিত মুষ্টিযুদ্ধ স্টেডিয়াম উদ্ভোধন করেন , এটিই বাংলাদেশের নির্মিত প্রথম ও একমাত্র মুষ্টিযুদ্ধ স্টেডিয়াম । স্টেডিয়ামটিও সরকারিভাবে মোহাম্মাদ আলী নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ সম্পকে আলীর দুটি বিখ্যাত উক্তি –

“স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশ এ ঘুরে আসুন ।“

“যুক্তরাষ্ট আমাকে তাড়িয়ে দিলে কী হবে , আমার বাংলাদেশ তো আছে  ।“

মৃত্যু বরণ

৩ জুন ২০১৬ ,সেপটিক শক এ আক্রান্ত হয়ে অ্যারিজিনার এক হাসপাতালে মারা যান। ১০ ই জুন , ২০১৬ মোহাম্মাদ আলীর সর্বধর্ম চিরবিদায় অনুষ্টিত হয় ।

If you like this post please must share with other people
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest
0Share on LinkedIn
Linkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *